ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ ছাত্রলীগ নেত্রী সাধারণ ছাত্রীর রগ কাটার অভিযোগ অস্বীকার

16 April, 2018 -> 9:28 am.
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইশরাত ঈশা, সাধারণ ছাত্রীরর পায়ের রগ কেটে ছিল যে অভিযোগ তা অস্বীকার  করেছে। তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভিত্তিহীন, উস্কানিমূলক গুজব ছড়িয়ে  পরিস্থিতি গভীর রাতে অস্থিতিশীল করা, যা গভীর ষড়যন্ত্রের ই অংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল হলে সারাদেশ জেগে উঠবে,উত্তপ্ত হবে রাজধানী। ঘটনার সম্প্রসারণে বহিঃবিশ্বের মিডিয়া গুলোতেও আলোড়ন সৃষ্টি হবে। পরিস্থিতি সরকার এমনকি সেনাবাহিনীকেও বাধ্য করতে পারে, কেননা ঘটনার পেক্ষাপট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখান থেকে সবই সম্ভব। আন্দোলনের ফলাফলের সুফল লাভের বিবেচনায়, কারা,কোন গোষ্ঠি এই সাম্প্রতিক আন্দোলনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে, তা বোঝার জন্য জ্যোতিষী বা বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। অর্থ্যাৎ সরকারের বিরোধী দলগুলো তাদের রাজনৈতিক সাংগঠনিক ব্যর্থতায় জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় দিশেহারা হয়ে যেন কোন নোংরা ষড়যন্ত্র করার জন্য উম্মুখ হয়ে আছে। তাই সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সামান্য ঐক্যের অভাব, মতভেদ, অসতর্কতা, বিপদ আনতে পারে। আর ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মতো বৃহৎ সংগঠনের সম্মেলন কেন্দ্রীক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা অপশক্তিগুলোকে ঐক্য বিনষ্টের সুযোগ করে দিয়েছে। একই সময়ে চলমান ছাত্রদের / বেকার যুবসমাজের কোটা নিয়ে অসন্তোষ ঐক্য বিনষ্ট করার সুযোগ কে দ্বিগুণ করেছে। আর এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করেছে সরকার বিরোধী অপশক্তিগুলো। যার ফলে গভীর রাতে ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তপ্ত করেছিল, সুকৌশলে কোটা সংস্কারের অজুহাতে ব্যবহার করেছে। তারা তাদের কাজে সফল হয়েছে, তারা সাধারন ছাত্রদের কাছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করেছে। আবার সুফিয়া কামাল হল সভাপতি ইশাকে অমানবিক,অশালীন ভাবে জুতার মালা পড়ানোর ধৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। তার জামা পর্যন্ত ছিড়ে দিয়েছে যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওর মাধ্যমে আমরা ইশার আর্তনাদ শুনেছি। এমন কোন মানুষ নেই, এই ভিডিও দেখে যার হৃদয় কাঁদে নি, আর আমরা যারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী তাদের মনে ক্ষোভ, অপমান,প্রতিশোধের নেশা, আর মানসিক যন্ত্রনা তাড়িয়ে বেরিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানববতার সংগঠন তাই মানবতা উপেক্ষা করে কোন কাজ আমরা করতে পারি না। অসহনীয় যন্ত্রনা!! সহ্য করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৃনমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আমাদের বোন ইশা নির্যাতিত। কিন্তু ইশা'র জন্য কেউ নেই কেন ?? এখন সুশীলরা কোথায়?? ইশা' কি নারী নয়?? ইশা'র সম্মান কি নারীর সম্মান নয়?? ইশা'র জন্য কি শুধু তার প্রিয় সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ?? প্রিয় ছাত্রলীগের ( কোটা,সংস্কারপন্থী) ভাইয়েরা গত কয়েকদিন আপনাদের যুক্তিবিদ্যার মুখোশ পড়ে আর সস্তা জনপ্রিয় হওয়ার লালসায়, নিজে ব্যতিক্রমী একজন হওয়ার তাড়নায় কিংবা অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যারা সাধারন শিক্ষার্থীর ( শিবির /ছাত্রদল/বাম, /ইউনিয়ন,সুশীল সহ আরো অনেক সুযোগ সন্ধানী এজেন্ড) ব্যানারে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, চেইন অব কমান্ড অমান্য করে, এমনকি প্রানপ্রিয় নেত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নির্ভরতার প্রতীক, ভরসার শেষ ঠিকানা,বঙ্গবন্ধু কন্যা,দেশরত্ন শেখ হাসিনা'র নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলন করেছেন,প্রিয় সহযোদ্ধা(সংস্কারপন্থী)ভাই আপনাকে বলছি।। ইশা আপনার বোন না?? ইশা ছাত্রলীগের নেত্রী না?? ইশা'র আপনি ভাই না?? ইশা নির্যাতিত না?? আপনার হৃদয় কাঁদছে না?? এই নির্মমতার বিচার চান না? বিচারের দাবিতে আন্দোলন যৌক্তিক না?? সুশীল ভাই!! আপনারা তো বলছিলেন----- "আপনারা আমাদের আদর্শের,অন্যায় মেনে নিবেন না।" ইশা'র শ্লীলতাহানি অন্যায় না?? ও আমার বামাতি আপনারা তো বলেছিলেন -- মেধাবীদের অধিকার, কেড়ে নিতে দিবো না। ইশা ঢাবি ছাত্রী,কি মেধাবী না?? ছাত্রদল,ইউনিয়ন, অনুপ্রবেশকারীরা আপনারা তো বলেছিলেন -- এটা রাজনৈতিক ইস্যু না,এটা সামগ্রিক ইস্যু। একজন মা,একজন বোনের, একজন নারীর সম্মান রক্ষা করা কি সামগ্রিক ইস্যু না?? কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী, আপনারা তো ঐক্যবদ্ধ। প্রতিবাদ করা উচিত না?? প্রতিবাদ না করা অন্যায় না?? যতোক্ষন সুষ্ঠু বিচার না হয়,ততোক্ষণ পর্যন্ত শাহবাগ এ আন্দোলন করা উচিত না?? ছাড়পোকা ইমরান এইডস গুজবের বাজার-দর নিয়ে লন্ডনে দর-কষাকষি করুক। আপনাদের উত্তর যদি হ্যা হয়। তাহলে সংস্কারপন্থী সহযোদ্ধা ভাই/ বন্ধুরা চলে আসুন শাহবাগ এ আপনাদের ন্যায়ের পক্ষের সৈনিক, সামগ্রিক যোদ্ধা,কোটাযোদ্ধা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ইশা'র উপর হিংস্রতার বিচারের দাবিতে -- স্লোগানে স্লোগানে মেতে উঠুক শাহবাগ। প্রতিবাদের ঝড় উঠুক সারা দেশে। অপরাধীদের কঠিন, দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সারা দেশে ইশা, ইশা, ইশা আওয়াজ তুলে, আকাশ বাতাস ভারি করে মুছে দাও আর্তনাদ। ইশা'র আর্তনাদ--- বাংলার প্রতিবাদ।। ইশা'র সম্মান ফিরিয়ে দাও-- দিতে হবে।। ইশা'র ভয় নাই-- আমরা আছি লক্ষ ভাই।। ছাত্রলীগের সহযোদ্ধা (কোটা সংস্কারপন্থী) ভাইরা,যাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছিলেন, তাদেরকে সাথে নিয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ কবে শুরু করবেন?? কবে শাহবাগ মুখরিত হবে?? কবে সারাদেশে একযোগে আন্দোলন করবেন?? কবে ঘোষনা দিবেন? ইশার নির্যাতনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ থেকে যাব না। কবে শুরু হচ্ছে আপনার বোনের নির্যাতনের বিচারের দাবীতে আন্দোলন?? জানি এই আন্দোলন হবে না। আপনারা(ছাত্রলীগের কোটা সংস্কারকারী) করতে চাইলেও তাদেরকে পাবেন না। কেননা আপনার বোন ইশা ছাত্রলীগের নেত্রী। ছাত্রলীগের উপর নির্যাতনের জন্য ছাত্রলীগই পাশে থাকে অন্য শিবির,ছাত্রদল,সুশীল, বাম,ইউনিয়ন এরা থাকবে না, যতো যৌক্তিক দাবিই হোক।। অথচ এই যৌক্তিকতার অজুহাত দেখিয়ে আপনারা তাদের সাথে ছিলেন। আচ্ছা আপনারা কি নিজের বাবা-মা এর কাছে যখন কোন দাবি করেন, তখন কি এলাকার লোকজনকে নিয়ে এসে সবাই মিলে করেন?? অবশ্যই করেন না,কারন ওটা পরিবারের বিষয়। অবশ্যই বাইরের মানুষকে আপনার বাবা-মাকে অপমান করার সুযোগ দিবেন না। অথচ এই আন্দোলনে আপনারা সেই সু্যোগই করে দিয়েছেন। আপনাদের কে দিয়েই তারা আপনার প্রিয়নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কে বিব্রত করেছে। আপনাদের প্রিয় সংগঠন কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে, সবার কাছে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে,এমন কি ইশার ঘটনার মাধ্যমে ছাত্রলীগকে চরমভাবে অপমানিত করেছে। ইশার ঘটনাটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে বিব্রত করেছে, এই সময়েও অনেকেই সুযোগ হিসেবে নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি Saifur Rahman Sohag ভাই, সাধারন সম্পাদক SM Jakir Hossain ভাই, ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতিAbid Al Hasan ভাই, সাধারন সম্পাদক Motahar Hossain Prince ভাই এর নানা সমালোচনা ও ব্যর্থতা তুলে ধরতে ব্যস্ত হয়ে পরেন। আমার ব্যক্তিগত মতামত চরম অনিশ্চয়তা,অস্থিতিশীল, উত্তপ্ত পরিবেশ শান্ত করাই ছিল তখন একমাত্র দায়িত্ব, কে কি করেছে,কে অপরাধী সেসব দেখার সুযোগ সেসময় ছিল না। ইশাকে বহিস্কার করেছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য,কেননা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অস্থিতিশীলতা বেড়ে গেলে স্থায়ী হলে তা দেশ ও সরকারের জন্য হুমকিও হতে পারতো। তাই সোহাগ ভাই ও জাকির ভাই কে অভিনন্দন জানাই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য,যা দেশ ও সরকারকে অনাকাঙ্খিত বিপদ থেকে রক্ষা করেছে।। " ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না " কিন্তু সাম্প্রতিক কোটা আন্দোলন, নারীর পাশবিকতা! ইশা'র মর্মস্পর্শী, হৃদয়বিদারক আর্তনাদ!!,প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো,গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীলতা,আমাদের দূর্বলতা/সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে দিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনের পূর্বে একটি অনুশীলন হয়ে থাকল। সরকারে উচিত এই আন্দোলনের সব কিছু অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে এর সাথে কারা কারা পৃষ্ঠপোষক, কার ভূমিকা কি,উদ্ভূদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রশাসন কি ভূমিকা পালন করেছে,দৃষ্টিভঙ্গী কেমন ছিল। কিভাবে আরো সহজে এই ঘটনাটিকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব ছিল? কি কি দূর্বলতা ছিল? এইসব বিষয় নিয়ে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে গবেষনা করে কার্যকরী সমাধান করা হলে এই কোটা সংস্কার আন্দোলন এর শিক্ষাই হবে আগামী নির্বাচনের জন্য আশীর্বাদস্বরুপ। দাঁগ থেকে যদি দাঁরুন কিছু হয়, তাহলে দাগ ই ভাল। লেখকঃ মোঃআবু মোন্নাফ আল কিবরিয়া তুষার সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
Share on Google Plus

About Md. Mokhlasur Rahman

0 comments:

Post a Comment