এখানে এড দিন

Header ADS

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার সর্বনিম্ন এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে

গত ১২ বছরের মধ্যে চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার সর্বনিম্ন। ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের শিক্ষকসংকট ও আইসিটির প্রশ্ন ‘কঠিন’ হওয়া, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা, খাতা দেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে এ ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২০০৬ সালে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরের বছর এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫ দশমিক ৯৮ শতাংশে। ২০০৮ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পাসের হার ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে শতকরা হার ছিল যথাক্রমে ৭১ দশমিক ১৭ ও ৭৩ দশমিক ৯৬। ২০১০ সালে পাসের হার দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০১১ সালে তা কিছুটা কমে হয় ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১২ সালে পাসের হার হয় ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গত এক যুগের মধ্যে সেটিই ছিল সর্বোচ্চ পাসের হার। তবে ২০১৩ সালে তা কমে হয়েছে ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৪ সালে পাসের হার কিছুটা বেড়ে হয় ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে কমে পাসের শতকরা হার হয়েছে যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৫৭ এবং ৬৮ দশমিক ৫৯। ২০১৭ সালে পাসের হার বেড়ে হয় ৭২ দশমিক শূন্য ৩। চলতি বছরে তা কমে পাস করেছে ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এটাই এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার।

ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা এ বোর্ডে সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরে ইংরেজি বিষয়ে ৬৫ হাজার ৩৬৩ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৯৮২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। শতকরা হিসাবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ২৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

ইংরেজির ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও ইংরেজির অধ্যাপক মুহা. হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি বলেন, ‘ক্লাসে আসতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম থাকা, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক-সংকট, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় দিক থেকেই গুণগত মানের অবনমন, শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবেই মূলত এ বিপর্যয় হয়েছে। তা ছাড়া নতুন সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের অভ্যস্ত না হয়ে ওঠার কারণ কিছুটা দায়ী। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে হলে এসব সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিতে হবে।’

এ বছর ৫৯ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী আইসিটি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ৬ হাজার ৯৬৮ জন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইসিটি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের চার বছরের কোর্সের সারমর্ম বলা যায়। তবে সিএসই বিভাগ থেকে স্নাতক করে বর্তমানে এত বেশি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় যে পাস করার পর স্বল্প বেতনে কেউ বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করতে চান না। আর সরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগের আগেই আইসিটি বিষয়টি কলেজ পর্যায়ে চালু করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ৩৮তম বিসিএসে ২৫৫টি আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তবে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সূত্র বলছে, ওই বিসিএস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক পদের জন্য মাত্র ৭৭টি আবেদন জমা পড়েছে। ফলে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। সিএসই বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর আয় ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় দেশে-বিদেশে খুবই ভালো অবস্থানে পৌঁছে যান তাঁরা। তাই বর্তমান বেতনকাঠামোতে কলেজ পর্যায়ের আইসিটি পড়ানোর শিক্ষক না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মনে করেন, সরকার চাইলে সিএসই বিষয়ের স্নাতকদের আইসিটি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে আকৃষ্ট করতে আলাদা সুযোগ-সুবিধা দিতে পারে। তখন তাঁরা এ পেশায় আকৃষ্ট হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি-মনস্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরিতে অবদান রাখতে পারে।

সিলেট এমসি কলেজ ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, এ বছর নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগের বছরগুলোর মতো এ বছর এক মার্কস কম পেলে ওপরের গ্রেড পাইয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। এ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরে অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় মানসম্পন্ন প্রশ্নপত্রের গুণগত মানেও ছাড় দেওয়া হয়নি। আইসিটি বিষয়ের শিক্ষকের তীব্র সংকট থাকায় ও প্রশ্নপত্র একটু বিশ্লেষণমূলক হওয়ায় তা শিক্ষার্থীদের কাছে ‘কঠিন’ মনে হয়েছে। অর্থনীতি, প্রাণিবিজ্ঞানসহ কিছু বিষয়ের প্রশ্নও তাঁদের কাছে ‘কঠিন’ মনে হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র বলছে, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিভাগীয় শহর থেকে জেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলে ক্রমান্বয়ে কমেছে। এ অবস্থা থেকে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সংখ্যার চেয়ে শিক্ষার মানের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হবে। আইসিটির শিক্ষক-সংকট এটা জাতীয় সমস্যা। এ বিষয়টি আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। তাঁরা এ বিষয়টির সমাধানে নিশ্চয়ই কাজ করবে।

এ বোর্ডের ২৮২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিলেও মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছেন। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে চার জেলায় সিলেট এগিয়ে পাসের হারের দিক থেকে এগিয়ে সিলেট জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৯১। সিলেট বোর্ডের চার জেলার মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার পাসের হার সর্বনিম্ন এবং তা ৫৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। সিলেট জেলা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯৬ জন শিক্ষার্থী। দ্বিতীয় অবস্থানে মৌলভীবাজার জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১৮ জন পরীক্ষার্থী। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে মৌলভীবাজার। হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে যথাক্রমে ৩৭ ও ২২ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ বেড়েছে। জিপিএ-৫-এ ছেলেরা এগিয়ে, পাসে মেয়েরা। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর জিপিএ-৫ ছিল ৭০০। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ৮৭৩। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ছেলেরা এগিয়ে। জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৭৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩৪ জন ছেলে ও ৩৩৯ জন মেয়ে। তবে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে। মেয়েদের ৬৪ দশমিক ৮১ ও ছেলেদের ৫৮ দশমিক ৯২ শতাংশ পাস করেছে।  ---উৎস অনলাইন

----উৎস অনলাইন

Share on Google Plus

About Md. Mokhlasur Rahman

0 comments:

Post a Comment