এখানে এড দিন

Header ADS

থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়ার নয় দিন পর উদ্ধার হওয়া কিশোর আদুল সাম-অন কি বলে শুনুন

‘ওই মুহূর্তটা ছিল আমাদের কাছে ম্যাজিকের মতো। পথ বানাতে আমরা পাথর ঘষছিলাম। এর মধ্যে একজনের কণ্ঠ শুনতে পেলাম! দেখতে বিদেশি মনে হওয়ায় তাদের আমি হ্যালো বললাম।’ থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়ার নয় দিন পর উদ্ধার হওয়া কিশোরদের একজন ১৪ বছর বয়সী আদুল সাম-অন সাংবাদিকদের এসব কথা বলে।

থাইল্যান্ডের অন্ধকার গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ কিশোর ও তাদের কোচ আজ বুধবার চিয়াং রাই হাসপাতাল ছেড়েছে। তার বক্তব্যে তাদের সন্ধান পাওয়ার দিনের বর্ণনা ওঠে আসে।

বাড়িতে যাওয়ার আগে ১২ কিশোর ও তাদের কোচকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা গুহার অভ্যন্তরে কাটানো কঠিন মুহূর্তের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়। এরপরই তারা বাড়িতে চলে যায়।


চিয়াং রাই হাসপাতালের একটি কক্ষকে ফুটবলের সবুজ মাঠের আদলে তৈরি করা হয়। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফুটবল। আছে গোলবার। কিশোর ফুটবলারদের দেখার জন্য সেখানে জড়ো হয়েছেন দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরা। দর্শক সারিও পূর্ণ। এ আয়োজন থাইল্যান্ডের থাম লুয়াং গুহায় আটকে থাকার ১৮ দিন পর উদ্ধার হওয়া কিশোর ফুটবল দলের ১২ সদস্য এবং তাদের কোচের জন্য।

১০ জুলাই সবাইকে উদ্ধারের পর প্রথমবারের মতো বুধবার জনসমক্ষে এল কিশোরেরা। এ উপলক্ষে চিয়াং রাইতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। হাসিমুখে কিশোরের দল সেখানে ঢোকে। তাদের পরনে ছিল তাদের ফুটবল দল ওয়াইল্ড বোরসের জার্সি। থাই ঐতিহ্য মেনে তারা সবাইকে শুভেচ্ছা জানায়। এ সময় সেখানে তাদের চিকিৎসক, স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। গুহা থেকে তাদের উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নেভি সিলের সদস্যরাও সেখানে ছিলেন। পৌনে এক ঘণ্টা ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই এক কিশোর ফুটবলার বলল, ‘সবাইকে বলি—লড়াই করো, হাল ছেড়ো না।’

আটকে পড়ার নয় দিন পর ২ জুলাই তাদের সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিল আদুল সাম-অন বলে, ‘মুহূর্তটা ছিল ম্যাজিকের মতো। পথ বানাতে পাথর ঘষছিলাম আমরা। এর মধ্যে কারও যেন কণ্ঠ শুনতে পেলাম! আমি তাদের দেখে “হ্যালো” বললাম। তাদের দেখতে বিদেশি মনে হচ্ছিল তো তাই।’ সে এই দলে ইংরেজিতে কথা বলতে পারা একমাত্র বালক।

প্রথম নয়টি দিন অন্ধকার গুহায় বেঁচে থাকার বিষয়ে টি নামের কিশোর বলল, ‘আমরা শুধু বৃষ্টির পানি পান করতাম। পানিটা স্বচ্ছ ছিল। আর কোনো খাবার ছিল না।’

সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য টিটান বলে, ‘আমার কোনো শক্তি ছিল না। আমি খাবারের কথা ভাবিনি। কারণ, খাবারের কথা ভাবলে আমার আরও বেশি ক্ষুধা লাগছিল।’

আটকে পড়া ১৩ জনের মধ্যে একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন সহকারী কোচ এক্কাপল চানতাওয়াং (২৫)। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের পাবে—এই আশায় বসে না থেকে আমরা বের হওয়ার পথ খনন করার চেষ্টা করেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব কিশোর খুব কষ্টে ছিল। তারা ভাবছিল, তাদের কারণেই তাদের মরতে হচ্ছে। তাদের কারণে পরিবার বিপদে পড়েছে।’

পূর্বঘোষিত সময়ের এক দিন আগে বুধবার তাদের চিয়াং রাইয়ের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বাড়ি ফিরে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কে থাকা এক কিশোর বলে ওঠে, ‘আমার ভয় করছে। আমি বাড়ি যাব না। বাড়ি গেলে মা-বাবা আমাকে বকা দেবেন।’

চিয়াং রাইয়ের প্রাদেশিক গভর্নর প্রাচন প্রাৎসুকান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটা গণমাধ্যমের সঙ্গে এই কিশোরদের একমাত্র আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার। এরপর তারা আর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জন্যও বেশ ঝক্কি পোহাতে হয়েছে সাংবাদিকদের। সাংবাদিকেরা যেসব প্রশ্ন করতে চান, সেগুলো প্রথমে জমা দিতে হয় কর্তৃপক্ষের কাছে। সেসব প্রশ্ন মনোবিদ যাচাই করে দেখেছেন। কিশোরদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনো প্রশ্ন তালিকায় রাখা হয়নি।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রাউত-চান ওচাও প্রশ্ন করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিকে চিকিৎসকেরা ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর দলের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলেছেন, ‘অন্তত এক মাস আপনারা সন্তানদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ হতে দেবেন না।’ বারবার যদিও বলা হয়েছে, তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভালো; তবে ভীতি কাটাতে তাদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হবে।

হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, ৮ থেকে ১০ জুলাই তিন দিনে ১৩ জনকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে থেকে একেকজনের গড়ে তিন কেজি করে ওজন বেড়েছে।

গত ২৩ জুন থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং রাই প্রদেশের থাম লুয়াং গুহায় বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ১২ খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচ। ১২ কিশোরের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তাদের সহকারী কোচ এক্কাপোল জানথাওংয়ের বয়স ২৫ বছর। তারা ওয়াইল্ড বিয়ার্স বা মু পা নামের একটি ফুটবল দলের সদস্য। নয় দিন গুহার ভেতরে আটকে থাকার পর ২ জুলাই ব্রিটিশ ডুবুরি রিচার্ড স্ট্যানটন ও জন ভলানথেন তাদের সন্ধান পান। অবস্থান জানার পর ১২ কিশোর ও তাদের কোচের জন্য গুহার ভেতরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করার পাশাপাশি পাঠানো হয় খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম। তবে ৫ জুলাই রাতে কিশোরদের কাছে অক্সিজেনের সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে প্রাণ হারান থাই নৌবাহিনীর সাবেক ডুবুরি সামান কুনান।

৭ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার এক চিকিৎসক গুহায় ঢুকে কোচ ও কিশোরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে উদ্ধার অভিযান শুরুর সবুজসংকেত দেন। তাদের অবস্থানস্থলে যাওয়ার জন্য ওই পাহাড়ে শতাধিক গর্ত করা হয়। তবে সেখানে কিশোরদের না পেয়ে আগের পরিকল্পনামতো ডুবসাঁতার দিয়ে তাদের উদ্ধারে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয় ৮ জুলাই। প্রথম দিন চারজন ও দ্বিতীয় দিন ৯ জুলাই চারজন আর তৃতীয় দিন ১০ জুলাই চার কিশোরসহ তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

----উৎস অনলাইন

Share on Google Plus

About Md. Mokhlasur Rahman

0 comments:

Post a Comment